সঙ্গীত চিন্তা-১

 সঙ্গীত চিন্তা-১

- এস এম মঈনুল ইসলাম

সঙ্গীত এমন  একটি বিষয় যেটা প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ের গভীরের একটি স্পন্দন,যেখানে অজান্তে সুর ভেসে ওঠে,দুঃখে,সুখে,বিদ্রোহে ও বিভিন্ন সময়ে। সঙ্গীত-শাস্ত্রীয় ভাবে বলতে গেলে গীত,বাদ্য ও নৃত্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়। আমরা যেহেতু ইসলামিক নাশিদ,গজল পরিবেশন করে থাকি সেহেতু আমি সেটাকে ব্যাখ্যা করি এভাবে গীত মানে হলো গানের কথা- যে কথা গুলো গীতিকার তার মনের ভাবনায় চিন্তায় অংকিত করে একটি কাব্যে,গান হওয়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সেটাই হলো গীত অথবা গানের কথা যে কথা গুলো শুধু লিপিবদ্ধ করা যায়। আর বাদ্য- বাদ্য বলতে এক কথায় বলবো, আওয়াজ অথবা সাউন্ড/শব্দ,যে আওয়াজ গুলো বিভিন্ন ভাবে তৈরী হতে পারে,যেমন-দফের আওয়াজ,বাসির সুর,যে কোনো কিছুর আঘাত জনিত শব্দ,অথবা মুখের আওয়াজ যে আওয়াজ আমরা লেখা গুলো পড়লে শুনতে পাই,, আর মাইকের আওয়াজ ইত্যাদি, এখানে গানের কথা গুলো যখন আমি আওয়াজ দিয়ে অথবা সুর দিয়ে পড়ছি, তখন একটি আওয়াজ তৈরী হচ্ছে,,যেটা আমরা শুনতে পাচ্ছি। এখন আসুন নৃত্য- নৃত্য হলো অঙ্গভঙ্গি,যার মধ্যে তাল,লয়,ছন্দ,উপলদ্ধি করা যায়,, অতএব একটি গান/গজল/নাশিদ পরিপূর্ণ হতে হলে- একটি ছন্দবদ্ধ অলঙকার সমৃদ্ধ কথা লাগবে এবং তার কথা গুলো সুন্দর একটি সুরেলা আওয়াজে তাল,লয় ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে।।

তাহলেই একটি পরিপূর্ণ সঙ্গীত অথবা নাশিদ তৈরী হবে।

আমাদের সঙ্গীতে দেখতে হবে যেনো কোনো প্রকার শিরিকের ছোঁয়া না থাকে,, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গীতিকার তার ইচ্ছে মত গান লিখে যাচ্ছে, কিন্তু সুরকার সেটা খেয়াল না করে সুর করছে আর শিল্পীও তার সেই গানটি উপস্থাপন করছে বড় বাজেট নিয়ে। আমাদের এই ব্যাপারটা খেয়াল রাখা উচিত যেনো গীতিকারের ভুল হলে সুরকার ধরিয়ে দিতে পারে,গীতিকার সুরকার ভুল করলেও যিনি সঙ্গীতটি রেকর্ড করবেন/পরিবেশন করবেন, তিনি যেনো সর্বাবস্থায় সচেতন থাকেন।।

আমাদের বর্তমান সময়ে ইসলামী সঙ্গীত অনেক উন্নত হচ্ছে-আগে আমাদের গান তৈরী হয়েছে,৪ ঘন্টায় ১০টি গান রেকর্ড হয়েছে,, তার মধ্যে তাল,লয়,স্কেল সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলনা,,  আমাদের শিল্পীরা অতটা অভিজ্ঞতা তখনও অর্জন করতে পারেনি,, আর এখন ঐ ৪ঘন্টায় কখনো কখনো একটি গান রেকর্ড করাও খুব কষ্টের হয়ে যায়। তার মানে এখন স্টুডিওতে যে মানের কম্পোজার কাজ করেন, তারা সর্বদিক থেকে অভিজ্ঞ। আর তাই গানের মানও হচ্ছে খুবই ভালো। গানের ভালো কাজের মাধ্যমে আজ সারা পৃথিবীতে ইসলামিক নাশিদ/সঙ্গীতের ঝড় উঠেছে।। 


ইসলামী সঙ্গীতে এক সময় ভিডিও নির্মান অকল্পনীয় ছিলো- হলেও একদিনে একটি এ্যালবামের কাজ শেষ হতো,, আর এখন একটি গানের চিত্রায়ন করার জন্য শুধু চিত্র পরিচালককে-অনেক ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকাও গুনতে হচ্ছে। এখন গিমবাল,ড্রোন, বিভিন্ন ধরনের লেন্স, এ সব গুলোর মাধ্যমে ভিডিও কোয়ালিটিও হচ্ছে অনেক মান সম্মত। আবার এই সঙ্গীতের মাঝে ঢুকানো হচ্ছে- অভিনয়.নাটকিয়তা,যে অভিনয়ের মাধ্যমে বুঝানো হচ্ছে গানের ভাষা গুলো। 


আর তাই বলবো ইসলামী সঙ্গীত বর্তমান সময়ে বড় একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের হাতিয়ার, আগে ইউটিউব খুললে ইসলামী সংগীতের খবর পেতে অনেক সার্চ করতে হতো,আর এখন ইউটিউব খুললেই,  বহু ইসলামিক নাশিদের খবর অনায়াসেই সামনে চলে আসে। আর তাই বলবো- সেদিন আর বেশি দুরে নয়- সুস্থ ধারার গান,সঙ্গীতে বিশ্ব জয় জয়কার হয়ে যাবে-ইনশাআল্লাহ।।

----------------------------------------------------------------------চলবে-----------------------------------


 এস এম মঈনুল ইসলাম

  সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব

ভয়েস অব হ্যাভেন স্টুডিও

নলতা,কালিগঞ্জ,সাতক্ষীরা।

মোবাইল-01915993047

whatsaap-01756351080


Comments